নির্দেশ: গদ্যাংশটি পাঠ করে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলির সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন।
আমার বালিকাবধূটির নাম ছিল রজনী। ডাক নাম চিনি। পিতৃগৃহে তাহার ডাকনামের চলটাই বেশি ছিল, এমনকি আমাদের বিবাহের সময় কন্যাপক্ষ যে রুমালপদ্য ছাপাইয়াছিল তাহাতে নলিনীদিদি তাঁহার আশীর্বাদে রজনিকে ‘চিনিপাতা দই' বলিয়া উল্লেখ করিয়াছিলেন।
বিবাহের সময় রজনির বয়স চতুর্দশ বৎসর হইয়াছিল। বলা প্রয়োজন আমার পিতা মহাশয় বাল্যবিবাহের ঘোরতর বিরোধী ছিলেন। ফলে ত্রয়োদশ বৎসর পর্যন্ত এই কার্য হওয়ার উপায় ছিল না। তাঁহার সিদ্ধান্ত বাল্যকালটাকে বড়োজোর ত্রয়োদশ বৎসর পর্যন্ত টানা যায়। তাহার পর কিশোর। নিজকন্যার ক্ষেত্রেও পিতাঠাকুর নিয়মটি রক্ষা করিয়াছিলেন।
চন্দ্রার স্বামীর নাম শরৎ। সে শহুরে ছেলে। আমার অপেক্ষা বয়সে সামান্য বড়ো। শরৎ শহুরে স্কুলে ম্যাট্রিক ক্লাসে পড়ে, অঙ্কে তাহার মাথা খুব সাফ ছিল। ম্যাট্রিক পরীক্ষার পর বাঁকুড়া ক্রিশ্চান কলেজে রাখিয়া তাহাকে সাইন্স পড়ানো হইবে, গুরুজনদের এইরূপ অভিলাষ ছিল।
সেকেন্ড ক্লাসে পড়িবার সময় আমার বিবাহ হয়—আমার বয়স তখন ষোলো বিবাহ হইয়াছিল ফাল্গুন মাসে—চন্দ্রার বিবাহের পক্ষকাল পরেই। মনে পড়িতেছে আমার বিবাহের দিনটিতে অতি প্রত্যুষে ঘুম হইতে উঠিয়াছিলাম। খুব দ্রুত আকাশ সাদা হইয়া গিয়াছিল। ফাঁকা মাঠ ও তৃণাচ্ছাদিত ঘাসে ফাল্গুনের শিশির পড়িয়া গ্রাম পথপ্রান্তর বড়ো কোমল দেখাইতেছিল।
আম, জাম, শিশু গাছের আশ্রয় ছাড়িয়া পাখিগুলি উড়িয়া যাইবার পূর্বে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করিয়াছিল। সূর্যোদয়ের সময় আমার স্নানপর্ব চলিতেছিল এবং তখন একটি ভোরের কোকিলও কুয়াতলার পাশে নিমগাছে বসিয়া মধুর করিয়া ডাকিতেছিল।